সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:৫২
ইয়েমেনের প্রতিরোধী জনগণের বিজয় ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়’: আয়াতুল্লাহ মারভি

ইয়েমেনের প্রতিরোধী জনগণের বিজয় ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়’: আয়াতুল্লাহ মারভি

আফগানিস্তানের খাতামুন নাবিয়্যিন (সা.) মাদরাসায় হামলার নিন্দা

ইরানের সর্বোচ্চ হাওযায়ে ইলমিয়া পরিষদের সদস্য ও পরিষদের দ্বিতীয় সম্পাদক আয়াতুল্লাহ জাওয়াদ মারভি ইয়েমেনের নিপীড়িত ও প্রতিরোধী জনগণের সাম্প্রতিক সাফল্যকে ‘ফাতহুল ফুতুহ’ (সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: তিনি বলেন, গত ১২ বছর ধরে ‘বনি উমাইয়া ও বনি মারওয়ানের উত্তরসূরিরা’ এই নিপীড়িত জনগণকে কঠোর অবরোধের মধ্যে রেখেছে। এত দীর্ঘ ও কঠিন অবরোধের মধ্যেও ইয়েমেনের জনগণ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ চালিয়ে গেছে।

আয়াতুল্লাহ মারভি ফিকহের উচ্চতর পাঠ ‘দারসে খারেজ’ শেষে বক্তব্য দেওয়ার সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং এটিকে ‘ফাতহুল ফুতুহ’ বা ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রথম বিষয়: ইয়েমেনের নিপীড়িত ও প্রতিরোধী জনগণকে বিজয়ের অভিনন্দন
আয়াতুল্লাহ মারভি বলেন, “ইয়েমেনের এই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়ের’ জন্য দেশটির নিপীড়িত, প্রতিরোধী ও ধর্মনিষ্ঠ জনগণকে অভিনন্দন জানাই।

ইয়েমেনের অভ্যন্তর থেকে আমি এমন কিছু খবর পেয়েছি, যা হয়তো অনেকের কাছে পৌঁছেনি। জনসমক্ষে যা বলা হয়েছে, তার চেয়েও বিস্তৃত কিছু ঘটনা ঘটেছে। সত্যিই এটি একটি অসাধারণ বিজয়।

গত ১২ বছর ধরে বনি উমাইয়া ও বনি মারওয়ানের উত্তরসূরিরা এই নিপীড়িত জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এটি ছিল অত্যন্ত কঠোর এক অবরোধ, যা বিশ্বের সব জাতির জন্যই শিক্ষণীয়। কিন্তু ইয়েমেনের জনগণ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্বের সর্বত্র ন্যায়পরায়ণ সুন্নিদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই—এই নিপীড়িত জনগণ কীভাবে ফিলিস্তিন ও গাজার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে গাজা ও ফিলিস্তিনের প্রতি কথায় ও কাজে সংহতি প্রকাশ করেছে। অথচ সুন্নি বিশ্বের মধ্যে যারা বনি উমাইয়া ও বনি মারওয়ানের উত্তরাধিকার বহন করে বলে দাবি করে, তারা এই নিপীড়িত জনগণের জন্য কী করেছে?

তবে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে তারা তাদের পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে। ভবিষ্যতেই স্পষ্ট হবে তারা কী করেছে।

আমরা ইয়েমেনের নিপীড়িত ও প্রতিরোধী জনগণকে এই মহান বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই।

গত কয়েক দিনেই তুরস্ক ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে কয়েক হাজার তাকফিরি যোদ্ধাকে ইস্তাম্বুল ও সৌদি আরব থেকে ইয়েমেনে প্রবেশ করানো হয়েছে। যখন তারা [ইয়েমেনের] অবরোধ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন এই ‘উমাইয়া শক্তিগুলোকে’ আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে।

কিন্তু ইয়েমেনের জনগণ এমন এক বিজয় অর্জন করেছে, যার প্রকৃত তাৎপর্য ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হবে।”

দ্বিতীয় বিষয়: আফগানিস্তানে খাতামুন নবিয়্যিন (সা.) মাদরাসায় হামলার নিন্দা
আয়াতুল্লাহ মারভি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ইসলাম সম্পর্কে একটি বিশেষ চিন্তা ও ব্যাখ্যা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর দুঃখজনকভাবে শুরু থেকেই কিছু অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রথমে তারা দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী—নারীদের—শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করেছে। এরপর তারা আহলে বাইতের অনুসারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে এবং তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তারা হুসাইনিয়া ও তেকিয়াগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

আর আজ তারা কাবুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খাতামুন নাবিয়্যিন (সা.) মাদরাসায় হামলা চালিয়েছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং খবর অনুযায়ী, তাদের মারধরও করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষককেও তারা সঙ্গে নিয়ে গেছে।

আমি তালেবানের আলেমদের বলছি—আপনাদের যদি জ্ঞান থাকে, তাহলে নিজেরাই আফগানিস্তানের ইতিহাস পড়ুন। আর যদি না থাকে, তাহলে কাউকে দিয়ে আপনাদের ইতিহাস পড়িয়ে নিন।

ইতিহাস পড়লে জানতে পারবেন, আফগানিস্তানে আহলে বাইতের অনুসারীরা কীভাবে দেশটির অস্তিত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। তারা আফগানিস্তানের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তারা তাদের সুন্নি ভাইদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

নিজেদের ইতিহাস পড়ুন এবং দেখুন, আপনাদের পূর্বপুরুষেরা শিয়াদের সঙ্গে কী আচরণ করেছিল—এমন একটি জনগোষ্ঠী, যাদের এই অঞ্চলে ইসলামের প্রথম শতাব্দী থেকেই উপস্থিতি রয়েছে।

আপনাদের পূর্বপুরুষেরা শিয়াদের বিরুদ্ধে যত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাতেও তাদের দমন করতে পারেনি। বরং তারা দিন দিন আরও বিকশিত হয়েছে। আজ ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাদের বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করছে।

আমি বলছি, এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। আপনাদের পূর্বপুরুষেরা কিছু করতে পারেনি; আপনারাও কিছু করতে পারবেন না।

হাওযার আলেম ও নেতৃবৃন্দ আপনাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যথাসময়ে আপনাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha